রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের বীরপুরুষ কবিতা

আজ শেয়ার কররো কবিগুরুর শিশু কবিতা শিশুদের নিয়ে রবীন্দ্রনাথের বীরপুরুষ কবিতা। কোনও বাঙালি কি রবীন্দ্রনাথ ছাড়া নিখুঁত মানুষ হতে পারে? বাংলা সাহিত্যে যার নাম সোনার অক্ষরে লেখা আছে তাকে ছাড়া বাঙালির কীভাবে সিদ্ধি পাওয়া যায়? সে কারণেই বাঙালি জীবনের ভাবনা রবীন্দ্র দর্শনের নাম। রবীন্দ্রনাথের বাবা-মা, শিক্ষক এবং সবাই ছোট-বড় সবাই।

রবির লেখা বাচ্চাদের জন্য নিখুঁত। তিনি তাদের জন্য অনেক লিখেছিলেন। কবি সারা জীবন বাচ্চাদের মাথায় রেখে লিখেছেন। শান্তিনিকেতন তৈরি হয়েছে আদর্শ মানুষ তৈরির জন্য। তিনি কেবল ছোটদের জন্য ছড়া, কবিতা, গল্প লিখেছেন তা নয়, তিনি স্কুলের পক্ষে সহজ পাঠ্যও লিখেছিলেন, তিনি ইংরেজি শেখার জন্য ইংরেজি পদক্ষেপও লিখেছিলেন। শিশুরা তাঁর বিশেষ চিন্তার জায়গা জুড়ে ছিল।

রবীন্দ্রনাথের শৈশব ছিল বৈচিত্র্যে পূর্ণ। আর তার জীবন পাঁচজনের চেয়ে বেশ আলাদা ছিল। বিশাল পরিবারে জন্ম। বিভিন্ন নিয়ম-কানুনের অধীনে তাঁকে শৃঙ্খলায় থাকতে হয়েছিল। খুব অল্প বয়স থেকেই সবকিছু ঘড়ির কাঁটা দিয়ে করতে হয়েছিল। আকাশের মতো উন্মুক্ত জীবন তাঁর কাছে স্বপ্নের মতো মনে হয়েছিল। আমি আমার বাবা-মার সাথে খুব একটা কাছে যাইনি। তাকে ঘিরে ছিল বিভিন্ন বিষয়ের চাকর ও শিক্ষক।

হয়ত সে কারণেই রবীন্দ্রনাথ অনেক স্বপ্ন দেখতেন। তিনি মনে মনে মুক্ত জীবনের ছবি আঁকতেন। তিনি কবিতা, গল্প, ছড়া এবং শিশুসাহিত্যে তাঁর স্বপ্নের জীবন সম্পর্কে লিখতেন। বিশ্বকবির হাতে শিশু সাহিত্য শুরু হয়েছে আশ্চর্য ও মায়াময় অনুভূতি দিয়ে। ছোটদের জন্য তিনি একের পর এক কবিতা লিখেছিলেন। ১৯০৯ সালে তাঁর শিশুদের কবিতা বই “শিশু” প্রকাশিত হয়। ‘শিশু’ কাব্যগ্রন্থটি শিশুসাহিত্যের নৃবিজ্ঞান হিসাবে পরিচিত। শিশু ১৯০৩-০৪ সালে কবিতা গ্রন্থের ৮ ম অংশে প্রথম প্রকাশিত হয়েছিল।

১৯০৯ সালে একটি পৃথক বই হিসাবে প্রকাশিত। রবীন্দ্রনাথের স্ত্রী মৃণালিনী দেবী ‘শিশু’ প্রকাশের এক বছর আগে মারা যান। তাঁর মৃত্যুর পরে কবি তার মাতৃহীন সন্তানের দুর্দশা অনুভব করেছিলেন। “শিশু” বইয়ের বেশিরভাগ কবিতা সন্তানের ভাষায় মাকে সম্বোধন করা হয়েছে। ‘শিশু’ কবিতা, জনকথা – “বিদ্যা” র poems১ টি কবিতার মধ্যে তিনি তাঁর অসুস্থ স্ত্রীর বিছানায় তাঁর শিশু পুত্র শমিন্দ্রকে মাথায় রেখে ৩১ টি কবিতা রচনা করেছিলেন।

কবিতা হ’ল শিশু কবির অন্তরে কেন্দ্রীভূত হওয়ার সময় উদ্ভূত আবেগের প্রকাশ। এই কবিতা রচনার উদ্দেশ্য ছিল শিশুদের কল্পনা আলোকিত করা। মৃণালিনী দেবীর মৃত্যুর পরে, রবি মাতৃহীন শিশুদের দুর্দশা অনুভব করেছিলেন। শিশু প্রকাশিত হওয়ার পরে ১৯০৩ সালে রেনুকার কন্যার মৃত্যু হয়। তাঁর চার বছরের ছেলে শমিন্দ্রনাথ মারা যান।

‘শিশু ভোলানাথ’ ‘শিশুর’ মতো কবিতার একটি বই, একটি সন্তানের মায়ের সাথে খেলা, মায়ের সাথে কথা বলা, আকাঙ্ক্ষা এবং সাহসিকতার প্রকাশ করে। ‘শিশু ভোলানাথ’ কবিতা ছড়াচ্ছে না। বিভিন্ন তাল, সমৃদ্ধ শব্দ এবং আবেগ সমৃদ্ধ। বইয়ের ছড়া রচনার সময়কাল 1935-36 খ্রি। এতে কবি লেখার সহায়তায় অতুলনীয় যাদু খেলা দেখিয়েছেন। আমার মনে আছে যখন কবি শব্দের মধ্যে উঁকি মেরে কথাগুলি প্রকাশ করেছিলেন। শিশুসাহিত্য তাঁর হাতে বিশেষত্ব অর্জন করেছে।

তিনি যেমন লিখেছিলেন, শিশুসাহিত্যের যে অংশটি শিশু সাহিত্যে অন্তর্ভুক্ত হতে পারে, বালক ভুলানো ছড়া (1906) তিনি সংগ্রহ ও প্রকাশের মহান দায়িত্বও পালন করেছিলেন। রবীন্দ্রনাথের বিশুদ্ধ হাসির জগৎ ছিল, তিনি হেসে হেসেছিলেন। তিনি হাসি দিয়ে অনেক কিছু শেখাতেন। তিনি কয়েকটি স্বল্প কমেডি নাটক রচনা করেছেন, যা রসিকতায় পরিপূর্ণ।

রবীন্দ্রনাথের শৈশব সম্পর্কে কৌতূহল কে? “শৈশব” বইটি তার শৈশবের একটি স্মরণীয় স্মৃতি। তাঁকে জানার জন্য শৈশব পড়া খুব জরুরি। আমরা পাঠককে রবীন্দ্র শিশুতোষকে নিম্নলিখিত উপায়ে দেখতে পারি – আমাদের শিশুদের পাঠ্যপুস্তকে সংকলিত প্রথম ছড়াটি হ’ল “বীরপুরুষ”।

বীরপুরুষ

রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর

মনে করে যেন বিদেশ ঘুরে
মাকে নিয়ে যাচ্ছি অনেক দূরে।
তুমি যাচ্ছ পালকিতে মা চড়ে
দরজা দুটো একটুকু ফাঁক করে,
আমি যাচ্ছি রাঙা ঘোড়ার পরে
টগবগিয়ে তোমার পাশে পাশে।
রাস্তা থেকে ঘোড়ার খুরে খুরে
রাঙা ধুলোয় মেঘ উড়িয়ে আসে

সন্ধ্যে হোলো, সূর্য নামে পাটে,
এলেম যেন জোড়াদীঘির মাঠে।
ধুধু করে যে-দিক পানে চাই,
কোনোখানে জন-মানব নাই,
তুমি যেন আপন মনে তাই
ভয় পেয়েছ, ভাবছ, এলেম কোথা,
আমি বলছি—ভয় কোরো না মা গো,
ঐ দেখা যায় মরা নদীর সেতা।

চোর-কাটাতে মাঠ রয়েছে ঢেকে,
মাঝখানেতে পথ গিয়েছে বেঁকে।
গোরুবাছুর নাইকো কোনোখানে,
সন্ধ্যে হোতেই গেছে গাঁয়ের পানে,
আমরা কোথায় যাচ্ছি কে তা জানে,
অন্ধকারে দেখা যায় না ভালো।
তুমি যেন বললে আমায় ডেকে,
“দীঘির ধারে ঐ যে কিসের আলো।”

এমন সময় “হরে রে রে রে রে,”
ঐ যে কারা আসতেছে ডাক ছেড়ে।
তুমি ভয়ে পালকিতে এক কোণে
ঠাকুর দেবতা স্মরণ করছ মনে,
বেয়ারাগুলো পাশের বঁটা-বনে
পালকি ছেড়ে কঁপছে থরোথরো,
আমি যেন তোমায় বলছি ডেকে
“আমি আছি ভয় কেন মা করো।”

হাতে-লাঠি মাথায় ঝাঁকড়া চুল,
কানে তাদের গোঁজা জবার ফুল।
আমি বলি, “দাড়া, খবরদার;
এক পা কাছে আসিস যদি আর

এই চেয়ে দেখ, আমার আলোয়ার
টুকরো করে দেব তোদের সৈরে।”
শুনে তার লম্ফ দিয়ে উঠে।
চেঁচিয়ে উঠল “হারে রে রে রে কে

তুমি বললে, “যাসনেকা ওরে,”
আমি বলি, “দেখো না চুপ কর।”
ছুটিয়ে ঘোড় গেলাম তাদের মাঝে,
ঢাল তলোয়ার ঝনঝনিয়ে বাজে,
কী ভয়ানক লড়াই হোলল। মা যে,
শুনে তোমার গায়ে দেবে কাটা।
কত লোক যে পালিয়ে গেল ভয়ে।
কত লোকের মাথা পড়ল কাটা।

এত লোকের সঙ্গে লড়াই করে
ভাবছ থোকা গেলই বুঝি মরে।
আমি তখন রক্ত মেখে ঘেমে
বলছি এসে, “লড়াই গেছে থেমে,
তুমি শুনে পালকি থেকে নেমে
চুমো খেয়ে নিচ্ছ আমায় কোলে;
বলছ,“ভাগ্যে খোক সঙ্গে ছিল
কী দুদশাই হোত তা না হোলে।”

রোজ কত কী ঘটে যাহা তাহা
এমন কেন সত্যি হয় না, আহা।
ঠিক যেন এক গল্প হোত তবে,
শুনত যারা অবাক হোত সবে,
দাদা বলত “কেমন করে হবে,
খোকার গায়ে এত কি জোর আছে।”
পাড়ার লোকে সবাই বলত শুনে,
“ভাগ্যে খোকা ছিল মায়ের কাছে॥”

Leave a Comment

holiganbet giriş - casinoslot giriş - betmarino giriş -
betboo giriş
-
betmatik giriş
-

betpas giriş

-

betasus giriş

- monobahis giriş - betist girişholiganbet giriş - casinoslot giriş - betmarino giriş -
betboo giriş
-
betmatik giriş
-

betpas giriş

-

betasus giriş

- monobahis giriş - betist giriş